ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত

২ হাজার ৪৩ কোটি টাকার চাল, ডাল, ভোজ্যতেল সার কিনবে সরকার

দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ২ হাজার ৪৩ কোটি টাকার চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও সার ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ২ হাজার ৪৩ কোটি টাকার চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও সার ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে গতকাল অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় এ বিষয়ে পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

এর বাইরে ৯০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচটি গ্যাসকূপ খনন করা হবে। পাশাপাশি বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও বিতরণসংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে ৫৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত ও পাকিস্তান থেকে মোট এক লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ভারতের মেসার্স পট্টভি এগ্রো ফুডস প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে প্যাকেজ ৯-এর আওতায় ৫০ হাজার টন নন-বাসমতী সেদ্ধ চাল কেনা হবে। এতে খরচ হবে ২১৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। প্রতি টন চালের মূল্য ধরা হয়েছে ৩৫৫ দশমিক ৭৭ ডলার। অন্যদিকে জিটুজির ভিত্তিতে ট্রেডিং করপোরেশন অব পাকিস্তানের (টিসিপি) কাছ থেকে কেনা হবে ৫০ হাজার টন আতপ চাল। এতে ব্যয় হবে ২৪১ কোটি ৫২ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতি টন চালের দাম পড়বে ৩৯৫ ডলার।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তিনটি পৃথক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে মোট ৩ কোটি ৭৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়ার সি মিলেনিয়াম ট্রেড (এম) এসডিএন থেকে ৫০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনা হবে। এতে ব্যয় হবে ৬৬ কোটি ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১৩২ টাকা শূন্য ৮৪ পয়সা।

যুক্তরাষ্ট্রের স্টুয়ার্ট ক্লোবানু গেরহার্ড থেকে ১ কোটি ২৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কিনবে সরকার। এতে ব্যয় হবে ১৬৫ কোটি ৮৬ লাখ ৯৩ হাজার ৭৫০ টাকা। প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১৩২ টাকা ৬৯ পয়সা। এছাড়া নাইজেরিয়ার ভিডোক ফার্মস অ্যান্ড এক্সপোর্ট লিমিটেড থেকে কেনা হবে দুই কোটি লিটার সয়াবিন তেল। এতে ব্যয় হবে ২৪২ কোটি ৬৪ লাখ ৩২ হাজার টাকা। প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১২১ টাকা ৩২ পয়সা।

অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় দরপত্রের মাধ্যমে এক কোটি লিটার রাইস ব্র্যান তেল ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে মোট ১৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১৬৭ টাকা ৯০ পয়সা। এর মধ্যে মজুমদার প্রডাক্টস লিমিটেডের কাছ থেকে কেনা হবে ৫০ লাখ লিটার। এছাড়া প্রধান অয়েল মিলস লিমিটেড ও গ্রিন অয়েল অ্যান্ড পোলট্রি ফিড ইন্ডাস্ট্রিজের কাছ থেকে কেনা হবে ২৫ লাখ লিটার করে রাইস ব্র্যান অয়েল।

এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আরেকটি প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ১০ হাজার টন মসুর ডাল (৫০ কেজির বস্তা) ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। খুলনার জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেডের কাছ থেকে এ ডাল কিনতে ব্যয় হবে ৭২ কোটি ২০ লাখ টাকা। প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম ধরা হয়েছে ৭২ টাকা ২০ পয়সা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের চারটি প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ৪০ হাজার টন ডিএপি ও ৯০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানির অনুমতি দিয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ৮৬৯ কোটি ৩১ লাখ ৮২ হাজার ৮০০ টাকা। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় অষ্টম লটের ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ৩২৪ কোটি ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৬৪০ টাকা। প্রতি টন সারের দাম পড়বে ৬৬০ দশমিক ৩৩ ডলার।

এছাড়া রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস ও বিএডিসির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় অষ্টম লটের ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৮১ কোটি ৭৪ লাখ ২৭ হাজার ৭২০ টাকা। প্রতি টন সারের দাম পড়বে ৪৯৩ দশমিক ৩৩ ডলার। পাশাপাশি ১১তম লটের ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে ১৮১ কোটি ৭৪ লাখ ২৭ হাজার ৭২০ টাকা। প্রতি টন সারের দাম পড়বে ৪৯৩ দশমিক ৩৩ ডলার। সবশেষ ১২তম লটের ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে ১৮১ কোটি ৭৪ লাখ ২৭ হাজার ৭২০ টাকা। প্রতি টনের দাম পড়বে ৪৯৩ দশমিক ৩৩ ডলার।

আরও